সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রমাদি ০৯

বদরের বাবা রমার মাথায় হাত রেখে আশির্বাদ করতে করতে  বলল,
ঃভাল কইরা পড়া লেহা করবা, তুমি যাও মা।মাষ্টার তাইলে আমি যাই গ্যা। কাম ফালায়া আইছি
ঠাকুর বলল,ঃনা খেয়ে যেতে পারবেন না ভাই 
ঃঠাকুর, আমি বা'তেই খাই,বাইরে খাই না
বৌদি আমি যাইগ্যা, বদরে থাকল আপনেগো এহানে আবার একদিন আসমু।

বিপিনের মা ঘাড় বাঁকিয়ে বিদায় দিলেন।বাড়ির বাহিরে তখন গ্রামের শত শত লোক, হা করে দাঁড়িয়ে আছে। কখন তাইজ্জা ডাকাত বের হয়, অার চেহারাটা কেহ-বা এক নজর দেখবে বলে।বাবা বাড়ির বাহিরে বের হয়েই একলাফে ঘোড়ার পিঠে চঢ়ে বসলেন, ঘোড়া চি-চি-চিং বলে লাফিয়ে চলল। দুই এক মিনিটের মধ্যে স্কুল মাঠ ফাঁকা হয়ে গেল।বিপিনের মা অতিথি রুমে নিয়ে গেলেন আমাকে--
ঃএই রুমে থাকবা। পাশের রুম বিপিনের, কিছু দরকার হইলে আমাগো কইবা, আর আমি তোমার মাসী লাগী, মাসী কইবা, তোমার বাবা অত মাছ আমাগো জন্য আনছে?
ঃ জানি না 
রমা সোনার মালা গলায় দিয়ে খুশিতে উঠোনে লাফাচ্ছিল।একবার গলা থেকে খুলছে আর পরছে ।রমাদির মা বলল
ঃওটা দে হারাইয়া যাইব।
বলা মাত্রই রমাদি লক্ষী মেয়ের মত তাহা মায়ের হাতে দিল। দিয়েই বদরের দিকে এগিয়ে গেল। রুমের মধ্যে প্রবেশ করতেই,
ঃ বদর দা,তুমি গিয়েছিলে কেন? বাড়িওয়ালা কি খারাপ লোক?
ঃ না!------ঃতবে যে পালালে---তোমার বই কোথায়?
ঃ জায়গীরদার বাড়ি,
ঃবই আনবে না?   ঃসব্ধে বেলা যাব
ঃআমাকেও সাথে নিয়ে যাবে?ঃ বিপিনদা জানে 

পাঠকগণ!
বদর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই রমাদের পরিবারে মিশে গেল। বদরের বাবা রমাদের পরিবারে চাল, ডাল, মাছ, সবজিসহ টাকা পয়সা পাঠাতে শুরু করল নিয়মিত।রমাদের পরিবার এখন বেশ সচ্ছল। রমার বাবা মাঝে একবার বাড়ি আসে।কিন্ত বদর সম্পর্কে সব কিছু জানার পর তিনিও আর অমত করলো না।
শুরু হল বদরের নতুন পথচলা। পায়জামা ছেড়ে, অন্য দশটা হিন্দু ছেলের মত সেও ধুতি পাঞ্জাবি পড়া শিখে গেল।
০৯

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঝরাপাতায় তুমি

ঝরাপাতায় তুমি        রুদ্র ম আল-আমিন বাতায়নে শুনি মর্মর পাতার ধ্বনি তবু রাত জেগে  একলা অপেক্ষায় থাকি, যদি এসে তুমি ফিরে যাও মোর জানালার গ্রিল খানি ধরি। সারা দিনমান ভরি বাঁকের বাড়িটির চারধারে দেখি সখিদের নিয়ে করো কানাকানি । মনাদের বাড়ি একটা উল্কির রুমাল রেখেছো আমায় দেবার তরি ভালবাসো ইহা তো বলতেই পারো না তবে কেন এবাড়ি ওবাড়ি রোজই বলো, আমি তাঁর ঘরে যাবো রাত্রি দ্বিপ্রহর হোলি। রাত গভীরে হঠাৎ হঠাৎ পায়ের আওয়াজ শুনি, মনে হয়, এই বুঝি তুমি এলে না হলে, আর কে-বা আসবে মোর বাড়ি। আলগোছে দোর খুলিয়া দেখি নিমতলে পরে থাকে ক’টা ঝরাপাতার ধ্বনি। উঠোনে দাড়াইয়া আনমনে চেয়ে থাকি তোমার জানালার ধারি বন্ধ কপাট কবু খুলতে দেখিনি মোর পায়ের আওয়াজ শুনি। ভালবাসি ভালোবাসি, কবে শুনবো তোর মুখখানা ধরি আমি যে রোজ অপেক্ষায় থাকি। মনা! আমি কি ফের ফিরে পাবো, তাঁর ভালবাসাখানি? November 14. 2020 Advertisements

উপ-৮

১০৫ ইয়াজ্জাদের এখন সুসময়, লোকজনের কাছে সময়টা এখন মুক্তিযুদ্ধ, আর ওদের জন্য এই সময়টা হচ্ছে আখের গোছানো।এরা নদীপথে নৌকা নিয়ে ওৎপেতে বসে থাকে,অপরিচিত  নৌকায় লোকজন দেখলেই তাহাদের সর্বশ্য কাড়িয়া নেয়।  রমা,বদর এবং টুনি রাত্রিতে খাওয়া দাওয়া শেষে মায়ের মুখে  নানার বাড়ি মাটিকাটার গল্প শুনতেছিল।হঠাৎই বাড়ির বাহিরে বাজানের কন্ঠ শোনা যায়।টুনি বলল, ঃমা- বাজানে আইছে। বদর দ্রত ঘর থেকে বের হল। বাজানের নিকট দাঁড়াতেই সে কহিল, ঃ মাটিকাটা আর মানুষ নাইরে বাবা, গ্রাম ফাঁকা অইয়ে গেছে।পাকবাহিনী শয়ে শয়ে মানুষরে গুলি কইরা মারতাছে।  টুনি বাবার হাত ধরে এগিয়ে চলল বাড়ির উঠোনে।এরপর, মা বদনায় পানি দিল অজুর জন্য। রমা কোন কথা কহিতে সাহস পাইতেছিল না।  বাবার জন্য গামছা নিয়ে তাহার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল।অজু শেষ করেই জিজ্ঞেস করিল, ঃতুমি এহানে কবে আইছো?তোমার মায় বাপে কোনে?তোমগোর গেরাম তো শুনছি জ্বালায়ে দিছে। ঃ  ওনারা ভারতে গেছে, কিন্ত আমি যাই নাই।  টুনির মা কহিল, ঃমাইয়াডা গেল না, ওর বাপ মায় আইছিল। ঃহ-- মায়া ছারুন যায় না। বদরে অনেক বছর ওগো ওহানে থাকলো, আমাগো চাইতে অরাই  বেশী আপন অইয়া গেছে অর।...

তোমার জন্য চিঠি

তোমার জন্য চিঠি,আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। অমর একুশে গ্রন্থমেলা২০২১, বইটি পাওয়া যাবে মৃদুল প্রকাশন স্টলে।              —- রুদ্র ম আল-আমিন