৩৩
ঠাকুর শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করলেন।বদর শ্রাদ্ধীয় নিয়ম গুলো বেশ উৎসুক মনোযোগী হয়ে দেখতে লাগলো
ওঁ ভূঃ ভুব স্বঃ তৎসবিতুঃ বরেণ্য ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো যোনঃ প্রচোদয়াৎ। ওঁ।
যজ্ঞ সম্পন্ন হলে কলাপাতায় কাকেদের জন্য টিনের চালে খাবার রাখতেই
মুহুর্তের মধ্যেই কাকেদের আনাগোনা বেড়ে যায় । সমাজের লোকজনকে বিদায় করে এর নিজেরা খাবার খেয়ে নেয়।(এই শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান মূলত রমাদের বাড়িতে আয়োজন করা হল। কারণ, রতন ছোট)
বদর তখন রুমে।মা বদরকে একবার ডাকল ।কিন্তু বদর কোন সারা দিল না।রমাদি বদরের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করতেইঃ রমা কি করছো এটা
ঃ দরজা বন্ধ করছো কেন? বাড়ি সুদ্দলোকজন কি বলবে সবাই।
রুমে প্রবেশ করেই বদরের দুহাত জরিয়ে ধরল।ঃ বদর দা তুমি আমার উপর রাগ করে থাকতে পারলে
ঃরাগ হলে কি আবার আসি,হাতটা ছাড়ো।
ঃ ছাড়তে পারি কথা দিতে হবে
ঃদরজাটা খুলতে দাও তারপর বলছি
ঃ না!
ঃবাবা জানতে পারলে কি হবে
ঃ জানুক
ঃকি
ঃতুমি আমাকে কথা না দিলে ছাড়ছি না,,
ঃতারাতারি বলো, কেউ আসতে পারে
ঃ পূজো দেখতে যাব কাল তোমার সাথে
ঃ বাবা কি ভাববে আর মা---
রমাদি বদরের হাত ছেড়ে দিয়ে দরজা খুলল। দরজায় দাড়িয়ে বলল,
ঃ বাবাকে আমি দেখব আর মাকে তুমি
৩৪
রমা চলে যাবার পর বদর ভাবতে লাগল যে, তার অনুপস্থিতিতে রমাদির হয়তো অনুরাগ থেমে গেছে।তার কিছুক্ষন পর বদর মায়ের ঘরে গেল,রমার বাবা খাটে হেলান দিয়ে শুয়ে ছিল।ন্যাড়া মাথায় একদম পুরোহিত এর মতন মনে হইতেছিল। পীষি ও শুকলা ঘরেই ছিল।বদর বলল,
ঃ মা কিছু বলবেন?
ঃ রমার বাবা বলছিলো তোমাকে কি কিনে দেবে।
ঃঅামার তো সবই আছে।
রমা বলল,,ঃতা কি করে হয়
বাবা রমার মাকে বলল ঃকাল রমাকে পাঠিয়ে দাও ওকে স্যুট প্যান্ট কিনে দিক।
বদর কোন কথা বলল না। মা বদরকে তার রুমে যেতে বলল। বদর চলে যাবার পর রমার উপর দায়িত্ব রইল।বদরকে পোষাক কিনে দেবার। রমা মনে মনে খুব হঁসি পাইতেছিল। কিন্তু প্রকাশ করার ভাষা খুজে পাইতেছিল না।রমা বলল ,
ঃবাবা একাজ-টা তুমিই কর,,
ঃ নারে মা,ওতো আমার সাথে কথা বলে না,বদর আমার কাছ থেকে নেবেই না।
রমা একবার ভাবল সত্যিই তো,, বাবার সাথে তো কোন দিন কথা বলতে দেখিনি।মহাষ্টমীর দিন সকালে রমার বাবা, রমাকে পাঠালেন বদরকে ডেকে আনতে,বদর তখুন পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত ছিল।রমা দৌড়ে গেল বদরের রুমে, গিয়েই বদরের খাটে ধপকরে বসে পরলো।বদর হতভম্ভ হয়ে গেল।
ঃপড়াশোনা ছেড়ে এখানে, বাবাকে তুমি ভয় পাও না।
ঃ বাবা পাঠলো
ঃবা-বা পা-ঠা-লো
চেয়ার ছেড়ে রমার কান ধরে বলল,,ঃবের হও নইলে মাকে ডাকব।
ঃ বাবা সত্যিই ডাকছে, ব্যাথা পাইতেছি তো।রমা চেচিয়ে উঠল-
ঃ বাবা বদর দা বিশ্বাস করছে না।
ওঘর থেকে রমার বাবা কি বলল তা বোঝা গেল না। বদর রুম থেকে বেরিয়ে এলো। বাবার সামনে দাড়াতেই বলল,
ঃ পরিক্ষার জন্য ভাল মতোন পড়তেছ তো---- রমা বায়না ধরেছে তোমার সাথে পুজো দেখতে যাবে। কাল নবমী তুমি একটু ঘুরিয়ে দেখাও
বদর বাবার সামনে কথা বলতে সংকোচ বোধ করতেছিল। মেষো আবার বলল,
৩৫
ঃতুমি বসো তোমার সাথে আমার কিছু বলার আছে।
মা ঘরেই ছিল, রমা পড়ার চেয়ারটা এগিয়ে দিল বাবা তখন মিনিট পাঁচেক এর জন্য বাইরে গেলেন।বদর মাকে জিজ্ঞাস করলঃ মা মেষো কি বলবে
ঃ আমাকে বলেনি
এর মধ্যেই রমার বাবা ঘরে এলো। এসেই খাটে বসতে বসতেই বলল,
ঃতোমার বাবা কোথাও
ঃআসাম গিয়েছিল, এই তো সেদিন বাড়ি এলো। এখন হয়তো বাড়িতেই।
ঃতুমি বিজয়া দশমীর পর বাড়ি যেও।বাবাকে বলবে, মেষো বলবেশহরে গন্ডগোল চলছে। ঃভাষানী, আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে আন্দলন করছে।
ঃভাষানী তো আমাদের বাড়িতে যায়।তার ছেলে নশের ভাষানী সেও।
ঃতোমার বাবা জানে শহরে কি হচ্ছে
ঃ না তো
ঃগন্ডগোল সারা দেশে ছরিয়ে পরতে পারে। এর পিছনে অন্য,কোন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তুমি বুঝবে না।বাবাকে সাবধান থাকতে বলো।
মা কিছু একটা বলতে চাইছিল বাবা ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন।রমা ভাবল যে বদরের বাবা মাতবর মানুষ তার আবার কি হবে।তাইতো বাবার কথা ভালো লাগছিল না তার।বদর চলে এলো রুমে,চেয়ারে বসে বাবার কথা ভাবতে লাগল,একবার ভাবল যে শহরে গন্ডগোল তা তো গ্রাম অবধি আসবে না আর আমাদের বাড়ি চরঅঞ্চলে ওখানে আর কি হবে।পরক্ষনে ভাবল যে,তবে কি বাবাকে পুলিশে ধরবে
পরেরদিন মহানবমী খুব সকালে রমা স্নান সেরে। মায়ের কাছে যায়। মা তখুন রান্না ঘরে ব্যাস্ত গিয়েই আলমারি থেকে পুজোর পোষাক ও গহনা বের করতে বলে।মাবলে রান্না শেষ করার পর দেবে। কিন্তু রমার তর সইছিল না শেষ মেশ আলমারির চাবি চাইল।মা বলল যে,তোর বাবার বালিশের নিচে রাখা আছে সেখান থেকে নিয়ে নিতে।বাবা তখুনো শুয়ে ঘুমিয়ে ছিলো। বালিশের নিচে হাত রাখতেই ঘুম ভেংগে গেলঃ কি খুজতেছিস?
ঃবাবা চাবি
ঃও-- এত সকালে---
ঃবদর দা পালাতে পারে তা-ই
৩৬
রমার বাবা ভাবল যে বদর হয়তো পূজোয় নিয়ে যাবে না। সে জন্যই এই ব্যাবস্থা।আলমারি খুলেই বদরের সার্ট আর জিন্স যেটা রমা গতকাল কিনে এনেছে সেটা বের করল। নিজের জন্য কেনা গাগড়ী আর সাদা সালোয়ার বের করে বদরের প্যান্ট এর উপর রাখতে গিয়ে একটু থেমে গেল।কিন্তু পরক্ষনে রেখে দিয়ে মনে মনে হেসে ফেলল।একটা টিনএজ মেয়ে যাহা করে রমা তাহাই করতে লাগল।পুরো আলমারি তছনছ করে ফেলল কিন্তু বদরের বাবার দেয়া সোনার চেইন খুঁজে পেল না। রাগে শরীরে গা জালা ধরতেছিল। রমা শান্ত স্বভাবের মেয়েটাে ভিতরে ভিতরে ফুঁসতে ছিলো। বাবা অনেকক্ষন ধরেই বালিশে মাথা রেখে ব্যাপারটা লক্ষ করছিল।শেষ মেষ রমাকে জিজ্ঞাস করল ঃকি পাইতেছিস না
ঃবাবা গয়না
ঃ এই বিপিনের মা, এই শুনে যাও
রমার মা হাতের কাজ ফেলে ঘরে এসে দাড়াতেইে,ঃরমার গয়না গুলো দিয়ে যাও
ঃ বাপ মেয়ের সময় অসময় নেই। পোষাক পরতে থাকো দিচ্ছি।
রমা গাগড়ী গায়ে চেপেই সাজগোজ নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরল। মা এসে গহনা দিতেই রমা বলল,ঃবদরের বাবার দেয়া চেইন,আমি তো বড় হয়েছি।
রমাকে চেইনটা দিয়ে সাবধানে থাকতে বলল,অনেক লোকের ভীর হয়।
এরপর গহনা গায়ে পরে বদরের সার্ট আর জিন্সপ্যান্ট নিয়ে বদরের রুমের সামনে দাঁড়াল। বদর তখনো রুমের দরজা খোলেনি।অন্যান্য দিন রমা বদর দা, বদর দা বলে ডাকলেও আজ দরজায় টোকা দিতে লাগল, বদর দরজা খুলেই দেখল, রমা দাড়িয়ে ঃতারাতারি স্নান করে নাও প্রতিমা দেখবো
:ঃহা–হা-হ-হ,
ঃআয়নায় গিয়ে দাড়াও প্রতিমা দেখা হয়ে যাবে
রমা প্যান্ট আর সার্ট বদরের হাতে দিয়ে তারাতারি স্নান সারতে বলল। বদর দেখল যে,রমা সত্যি দূর্গা হয়ে গেছে।মহানবমীতে সারাদিন রমাকে নিয়ে পূজা মন্ডপে ঘুরে ঘুরে পূজো দেখাতে লাগল।কিন্ত একটা টিনএজ মেয়ের মনের গভীরে যে ভালবাসা লুকায়িত ছিলো তা বদরকে কে কোন ভাবেই বোঝাতে পারছিল না ।সকাল বেলা বাড়ি থেকে রেরিয়েছে এই উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে দুটো সন্ধা গড়িয়ে রাত গভীর থেকে গভীর তর হইতেছে।
৩৭
কিন্তু রমার বাড়ি ফেরার কোন লক্ষণ নেই।বদর পীড়াপীড়ি করতে ছিলো
কিন্তু রমা বদরের বথা কোন বর্নপাত করছে না।এখন তারা বামন পাড়া পূজোয়, বাড়ি থেকে চার মাইল দুরে। এই গ্রাম থেকে বেরুনের একটাই রাস্তা পায়ে হেটে সোজা সয়া মাঝিপাড়ার দিকে সেখানেও বেশ জোরে সোরে পূজো চলছে। ব্রামন পাড়া মাঝি পাড়া তিনকিলো দুরে।রাত্রি অনেক হয়ে গেল, বদর বুঝতে পারছিল না সে বাড়িতে কি বলবে। লোকজন সব ধুপতি হাতে তখুন আলতী নিয়ে ব্যাস্ত। (এক প্রকার নৃত্য) অবশেষে বদর সিদ্দান্ত নিলো জোর করে হলেও রমাকে এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে আর তাইতো,,
বদর,রমার হাতধরে টানাটানি করতেছিলো একটা উঠতি বয়সী ছেলে বদরের হাত খামচে ধরে বলল,ঃনাম কি
ঃবদর
বদর নামটা শুনেই ছেলেটা চেচিয়ে ঊঠল। লোকজন আলতী বন্ধ করে মারতে এলো বদরকে।রমা বদরকে জরিয়ে ধরে চিৎকার করে বলল ওকে তোমরা মেরো না।পূজো কমিটি এগিয়ে এলো, তাদেরকে কোন কথা বলতে না দিয়েই রমা বলল,,ঃ ও আমার বর,রাত হয়েছে তাইতো--
লোকজন তেমন কিছু আর বলল না, রমা বদরের হাত ধরে বেরিয়ে সোজা সয়া পাড়ার দিকে হাটতে লাগল।পথে বদর রমাকে একটি কথাও বলল না।
মনে মনে ভাবতে লাগল রমা একি বলল লোকজনকে,আমি ওর বর।
মনে মনে হাসতে ছিলো অন্ধকারে হাসিটা রমার চোঁখে পরলো না।
রমা সারাপখ বদরের সার্ট ধরে হাটতেছিলো।প্রায় এক ঘন্টা হাটার পর মাঝি বাড়ির কাছাকাছি পৌছতেই বদর দাঁড়িয়ে পরলো,ঃতুমি লোকজনকে বললে আমি তোমার বর
ঃতোমাকে চিনতে পারেনি ওরা
ঃসেটা তো বুঝলাম কিন্তু
ঃওরা তোমাকে মারতে এলো
ঃতাই বলে
ঃমুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে
রমা বদরের আর কোন কথার জবাব দিল না। রমা বলল ঃমাঝি বাড়ি চলো
ঃকেন
ঃরতন কাকার ওখানে
৩৮
একটু আগাতেই পখের ধারেই কালী মন্দির মাঝি পাঁড়ার পূজো চলছে পথেই রতন কাকার সাথে দেখা হল।রতনকাকা রমাদিকে নিয়ে গেল পূজো মন্ডপে,রাত তখুন গভীর। রমা একটা ছেলের হাত থেকে ধুপতি নিয়েই মাতালের মত নাচতে লাগলেন।কাকা চেয়ারে বসে দেখতে লাগল।বদর কাকার পাশে দাড়িয়ে,অনুমান করতে পারল না যে, হঠাৎ রমার মধ্যে দেবীরুপ কোথা থেকে এলো। বদরকে বলল ঃবদর দেখেছ, রমার মনটা দেবীমার পায়ে সমার্পন করেছে।ওর মা ওর মতোই ছিলো।
বদর অন্যমনস্ক থাকায কাকা কথা বাড়াণ না,, বদর এক দৃষ্টিতে রমার নৃত্য দেখতেছিল।হঠাৎ, রমার হাত থেকে ধুপতি পরতেই রতন কাকার পায়ের কাছে রমাও পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। বদর রমাকে ঝাপটে ধরে বললঃ কাকা তারাতারি ধরুন।পুরোহিত চোঁখে মুখে জল ছিটিয়ে দিতেই চোঁখ মেলে তাঁকাল। বদর টেনে তুলল রমাকে এরপর কাকা ওদেরকে নিয়ে গেলেন বাড়িতে।রমাকে জিজ্ঞাস করলঃ এভাবে পরে গেলি কেন?
ঃজানিনা কাকা
বদর বলল, ঃসারাদিন কিছুই মুখে দেয়নি।
ঃমা জানে
ঃসকালে বের হয়ে গালা, বামন পাড়া এরপর এখানে।
কাকা খেতে দিতে বলল বৌদিকে। খাবার খাওয়া শেষ হতেই বললএখুন ঘুমোতে যাও কাল অাবার বিজয়দশমী বদর কাকার রুমে শুয়ে পরলো। কাকা চলে গেল পূজো মন্ডপে। বদরের নিদ্রা পাইতেছিল না। রমার কথা খুব মনে পরতে লাগল। বর কথাটা মনের মধ্যে খটকা বাঁধাচছিল আর রমার দেবীরুপ দুটো এক সাথে মেলাতে পারতেছিল না।এবার বিছানা ছেড়ে ঘরের মধ্যে পা'চারী করতে লাগল।বদর সারারাত জেগে থাকল। বিজয়দশমীর দিন খুব ভোরে রমার বাবা হাজির হলো রতনদের বাড়িতে। রমার কথা বলতেই,বৌদি বলল,,ঃও ঘুমাইতাছে।
রমার বাবা কিছু না বোঝার ভান করে বললঃরতন কোথায়? ওর কাছেই এসেছি
ঃ ও হয়তো কারো বাড়িতে শুয়ে আছে।
বদর বাহিরের কথাগুলো ঘরের ভেতর থেকেই শুনতে ছিলো কিন্তু আন্দাজ করতেপারতেছিল না।
৩৯
দরজা খুলতেই বাবা বললঃউঠলে কেন
ঃনা, আপনার গলার স্বর পেলাম তাই
ঃ ও ও হো হো,, রতন এর কাছে
।আমি মন্ডপে গেলাম রতন কে পাঠিয়ে দিও বৌদি
বাবা বের হওয়ার মিনিট পাচেক পরেই রতন ফিরেই স্নান করতে গেল।
রাতে অতিমাত্রায় বোদকা ( মদ)খেয়েছিল। শরীর প্রবিত্রতার জন্য,স্নানে যেতেই বৌদি জানাল যে রমার বাবা মন্দিরে আছে তারাতারি যাও।রতন গিয়েই দেখল পুরোহিত সকলকে দাড় করিয়ে মন্ত্র শুরু করছে
“ঔঁ জয়ন্তি মঙ্গলা কালী, ভদ্র কালী কপালিনী, দূর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী, স্বাহা স্বধা নমস্তুতে। এস স্ব চন্দন পুষ্প বিল্ব পত্রাঞ্জলী নম ভগবতী দূর্গা দেবী নমহ্”
এবার দূর্গাকে প্রণাম করতে হবে, এই বলেই মন্ত্র পড়তে লাগলেন
“সর্ব মঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে
শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরি নারায়নী নমস্তুতে”
দুপুর বেলা লোকজন হলি খেলা নিয়ে ব্যাস্ত। রমা কো্থেকে যেনো রঙ এনে বাবা কাকাকে মাখিয়ে দিল। রমা এমন এমন সব কান্ড করতে লাগল যে বদর তা দেখে হতভম্ব হয়ে গেল।রমার প্রকৃতরুপ যে কি বদর তাহা অনুমান করতে পারছে না।রতনের ঘরের বারান্দায় বদর চেয়ারে বসে ইহা দেখতেছিল । হঠাৎ রমা তার দিকে এগিয়ে আসতেই উঠে রতন কাকার ঘরে গেল। কাকা,বাবা তখুন উঠোনে হাসাহাসি করতে ছিলো, ঘরে প্রবেশ করেই বদরকে রঙ মেখে দিতে চাইল, অনেকটা জোর পূর্বক শরীর দিয়ে ঠেসে ধরলেন।বদর কি করবে ভাবতে পারতেছিল না। মুখে, বুকে বাসন্তী ও সিধুরের মিশ্রন প্রলেপ লাগিয় দিল।।বদর অসম্ভব লজ্জা বোধ করতে লাগল।রমা শেষে হাসতে হাসতে ঘর থেকে বের হলো। বদর এই হাঁসির অর্থ বুঝতে না পারলেও এটা ভাবল যে রমার মধ্যে একটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাইতেছে কিন্তু কেন?
প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই চলে। ধর্ম মানুূষ কে একটা নতুন পথের সন্ধান দেখায়। কিন্তু মানুূষ যুগ যুগ ধরে ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে জাতকুল বিসর্জন দিয়ে আসছে।
৪০
আজ প্রতিমা বিসর্জনের দিন। দেবী দূর্গা সর্গলোকে ফিরে যাচ্ছে।এদিকে রমাও নিজেকে বিসর্জনের দারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
বদর ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেল ইন্দিরার দিকে। ইন্দিরা থেকে জল নিয়ে স্নান করলেও শরীর থেকে রঙ সম্পূর্ণ মুছেফেলা সম্ভব হলো না।।নতুন কাপড় পরিধান করলেও বদরের কেবলই মনে হইতেছিল যে রমার
শরীরের ঘ্রাণ তার শরীরে এখুনো লেগে আছে।বিকেলের দিকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হলো খেয়াঘাটের কাছে।বাবা ও কাকার নিকটেই দাড়িয়ে ছিল, রমা ও বদর।সূর্যাস্তয়ের সাথে সাথে দেয়া হলো প্রতিমা বিসর্জন। বাবা কাকা স্নান করল নদীতেই।এরপর বাবার সাথে হেটে চলল রমা ও বদর।
রমার বাবা ভেজা কাপড়েই হেটে চলছিল বাঘিলের রাস্তা ধরে।বাবা রমাকে বলল,ঃপূজো কোথায় কোথায় দেখেছিস
ঃসবখানে বাবা
ঃএবার কোন পাড়া ভালো করল
ঃগালা পালবাড়ি
ঃতিথীর ওখানে গিয়েছিলি?
ঃ পীষিকে পাইনি তবে ওরা বোধহয় পূজো তেখতে বেরিয়ে ছিল।
ঃবদর তোমার তো ভাল লাগছিল না
ঃনা না না মেষো, তা কি করে হয়।
ঃপড়াশোনাটা মনোযোগ দিয়ে করিও সামনে মেট্রিকুলেশান, এর মধ্যে শুনলাম,আবার বাড়ি ছিলে।
রমা বাবাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,,
ঃবাবা বিপিন দা পূজোয়ও আসলো না।
বাবা চুপচাপ রইল যেন আমার কথা শুনতেই পেল না। পরেরদিন শেষ রাতেই বাবা, ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হলেন। মায়ের চোখে জল টলমল করতে ছিল। রমার বুকের ভিতর একটা চাপা রুদ্ধদার ওষ্ঠাগত হইতেছিল। বদর বাবার ব্যাগটা হাতে নিয়ে সামনের দিকে এগুতে লাগল।রমার মা বাড়ি থেকে কিছুদুর যাবার পর বিদায় জানালো। এই ভদ্র মহিলা বাবাকে যতদুর দেখা যায় ততক্ষণ দাড়িয়ে থেকে,এবার উলটো দিকে বাড়ির পখ ধরলেন।রমা ও বদর সামনের দিকে প্রায় মাইল তিনেক এগিয়ে গেলে। রমার বাবা মেয়ের হাতটা ছেড়ে দিয়ে বদরের নিকট থেকে ব্যাগ নিয়েই বলল, বাড়ি যাও।
৪১
সূর্য তখুন পুব আকাশে লাল রং ধারন করেছে।বদর দাঁড়িয়ে মেষো কে বিদায় দিতেই।রমা বাবাকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। বাবার চোঁখেও জল টলমল করছিল। শেষমেষ টাউনের দিকে পথ ধরে এগুতে লাগলেন।রমা বদর পাশাপাশি হাটলেও,প্রায় মাইল খানেক তাদের মধ্যে কোন কথাবার্তা হচ্ছিলনা।বদর বুঝতে পারল যে,রমার বাবাকে বিদায় জানাতে খুব কষ্ট হচ্ছিল।তাইতো রমাকে উদ্যেশ্য করে বলল
ঃ আমার বাবাকে আমি কোনদিনও জরিয়ে ধরিনি, আমি জানি না বাবার সাথে মুহুর্তো টা কেমন হয়। কিন্তু তোমাকে দেখে আজ কিছুটা হলেও বুঝতে পারলাম।বদর একা একা কথা গুলো বলতেছিল।রমার কোন প্রতুত্তর না পেয়ে সে আবারও বলল,
ঃবাবাকে প্রচুর ভয় পেতাম, অভাব বোধটা জানি না,বাবা ডাকাতি করলেও তার মতন মানুূষ হয় না।তোমাকে একদিন নিয়ে দেখাব,তুমি যাবে আমার সাথে?
রমা ঘাড় নেরে বোঝাল যে হ্যা সে যাবে।বাড়ি ফিরেই রমা বিছানায় বালিশে মাথাগুজে কাঁদছিল।বদর রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ল। দুপুরবেলা মা ডেকে বদর কে খেতে দিলেন কিন্তু রমা কিছুই খেলো না।বদর দেখল রমার চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে। মায়ের সামনে বদর কোন কথা না বলে খেয়েদেয়েই রুমে ফিরল।
পরেরদিন সকাল বেলা রমাদের বাড়িতে সমাজপতি নারায়ন ঠাকুর এসে হাজির হয়ে বদর কে ডাকলেন বদর তখুন ঘুম থেকে উঠেনি। রমা গিয়ে বদর কে ডেকে তুলল। মা ঠাকুর মশাইর জন্য চেয়ার আনলেন।বদর দরজা খুলে উঠোনে দাড়াতেই ঠাকুর বলল,,ঃবদর তুমি বাড়িতে যাও তাজ ভাইকে গত রাতে পুলিশে ধরেছে।উনি মামিনসিং (ময়মনসিংহ) জেলে আছেন।
বদর যেন কথাটা শুনেই আকাশ থেকে মাটিতে পরলেন। চোঁখ দিয়ে জরজর করে জল গরিয়ে পরতেছিল। মা বদরের দিকে তাকিয়েই ব্যাপার টা বুঝে গেলেন।রমা দৌড়ে চলে গেলেন ঘরে। দরজা বব্ধ করে কাঁদতে লাগল,এবার মায়ের চোখের পানি শাড়ীর আঁচল দিয়ে মুছতে লাগলেন।অনেকক্ষন পর বদর একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিলেন।মা ঠাকুরকে বলল,
ঃআপনি কিছু একটা করতে পারবেন না।উনিতো ভাল লোক
ঃবদর তুমি বাড়ি থেকে আজি ঘুরে আসো দেখি কি করা যায়।
বদর দ্রত ছুটে যায় বাড়ি, মা আর টুনি উঠোনের মাটিতে পাগলের মতন আধমরা হয়ে পড়ে আছেন তখুন। মাতবরকে কখনও পুলিশে ধরবে এটা যেন অকল্পনীয় ব্যাপার।
৪২
দাদাকে দেখে টুনি গলা জরিয়ে ধরে কাঁদতে থাকলেও তার কন্ঠ বসে গিযেছিল অতিমাত্রায় ক্রন্দনের ফলে।মাকে মাটি থেকে তুলে বদর কেঁদে ফেলতেই বাড়িতে কাঁন্নার রোল পরে যায়।দুপুরের দিকে বদর মায়ের কাছে ভাষানীর বাড়ির ঠিকানা জানতে চায়।কিন্তু বদরের মা একজন সাধারন মহিলা হওয়ায় পুরো ঠিকানা দিতে পারে না।তবে জানায় যে টাংগাইল এর সন্তোষে তার বাড়ি।ভাসানীর কথা বলতেই বদরের মায়ের মনে সাহস সন্চয় হয় যে, উনি তোর বাবাকে ছাড়াতে পারবে।
আর দেরি নয়, মাকে সান্ত্বনা দিয়েই বদর আবার রওনা হন রমাদের বাড়ির দিকে।সন্ধার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে বদর ফিরে আসে রমাদের বাড়িতে।বদর এই কয়েক ঘন্টায় তার চেহারায় বিসন্নতা ছাপ পরে গেছে।রমা ও রমার মা বদরকে সান্তনা দেবার ভাষা খুঁজে পাইতেছিল না।রমা মায়ের সামনেই, বদরের হাত ধরে নিয়ে গেল ইন্দিরার কাছে। নিয়েই গায়ের সার্ট খুলে ফেললেন। বদর বাচ্চা ছেলের মতন চুপচাপ রইল।জল দিয়ে স্নান করাতে লাগলো। স্নান শেষ হলে বদরকে ঘরে এনে খাটে বসিয়ে দেন। রমা তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছিয়ে দিচ্ছিল ।মা বলল,,ঃ কেন ধরল জানা গেল কি
বদর বলল ঃ না তা জানা যায়নি
রমা,বদরের মাথার জল শুকিয়ে দিয়ে শরিষার তৈল দিতে লাগল। বদর বাধা দিতেই রমা বলল,ঃতেল না দিলে মাথাব্যথা করবে
রমা এমন ভাবে সেগুলো করছিল যেন, তার বরকে সে সেবা করছে। বদরের শরীরও সারাদিনে এই ধকলের কারনে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পরছিল।মা বলল,
ঃএখানে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকো। একটু পরে খাবার খেয়ে তার পর রুমে যেয়ে শোবে।সকালে নারায়ন বাবুর কাছে একবার যেও। রমাকে সাথে নিয়ে যেও।রমা কে মা বলল যেঃ মাথাটা ভালো করে টিপতে থাকো আমার খুব একটা ভাল ঠেকতাছে না।বদর মেট্রিকুলেশনের ছাত্র। কিন্ত আইনি বিষয়ে তার কোন কিছুই জানা নাই।ভোরবেলা রমা এবং মা ঘুমিয়ে আছে, বদর ছুটে যায় নারায়ন ঠাকুরের বাড়ি। সারারাত দুই চোখের পাতা এক করেনি। ঠাকুরকে ডাকতেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এলো। ঠাকুর বদরকে জানালো যে,সেও আইনি ব্যাপারটা ভাল বোঝে না।তবে একজন উকিল মোক্তার ধরতে হবে। মামিনসিং (ময়মনসিংহ) কোর্টে গিয়ে।
৪৩
বদর অনুমান করতে লাগল যে তবে তাকে ময়মনসিংহ যেতেই হবে।এবার নারায়ন বাবুর কাছ থেকে ঠিকানা নিলেন, ভাসানীর বাড়ির।বাড়ি এসে দেখল মা ঘরের দরজা খুলতেছে। মাকে বদর বলল,ঃমা আমি ভাসানীর বাড়িযাইতেছি মা বলল রমা কে সাথে নিয়ে যেতে, কিন্তু বদরের মন সায় দিচ্ছিলনা। অনেকটা বাধ্য হয়েই অবশেষ রাজি হলো।রমা তারাতারি পোষাকে পরিবর্তনের জন্য উতলা হয়ে গেল।মা, রমাকে ডেকে হাতে বেশকিছু রুপি(টাকা) ধরিয়ে দিলেন। দুপুরে বাইরে খেয়ে নিতে বলল।বদর দ্রত তৈরি হয়েই রমাকে বলল,ঃ তোমার হয়ে গেছে।
ঃহ্যা
ঃমা আমি তারাতারিই ফিরব, আপনি কোন চিন্তা করবেন না।
বদর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়েই বাড়ি থেকে বেরুল।রমা বদরের পাশাপাশি চলতে লাগল, পথে কিছুদুর যাবার পর খুচরো পয়সা সমেত টাকা গুলো বদরের দিকে বাড়িয়ে দিতেই বদর বলল,ঃ তুমি এগুলো কোথায় পেলে?
ঃখুচরো গুলো আমার, আর এগুলো মা দিল তোমাকে দিতে।
ঃতুমি রেখে দাও
ঃ মা রাগ করবে তো
ঃ মা কে বলো -আমি বাড়ি থেকে টাকা এনেছি।
বদর তখুন প্রায় পাঁচ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। হঠাৎ রমা দাঁড়িয়ে পরলো।
ঃকি হলো দাঁড়ালে কেন?
ঃ তুমি এগুলো নাও তার পর
ঃঠিক আছে খুচরো গুলো দাও ওগুলো তোমার কাছেই থাক
রমা খুচরো পয়সা গুলো বদরের হাতে দিয়ে বদরের হাত ধরে চলতে লাগল।
লোকজন কে জিজ্ঞেস করতে করতে সামনের দিকে আগাতে থাকল।প্রায় দু ঘনটা পর মাওলানা আঃ হামিদ খানের বাড়ি খুজে পেল।কাচারি বাড়িতে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করতেইভাসানীর ছেলে নওশের ভাসানী এগিয়ে এলো,
ঃতোমাকে-কোথায়-যেন-- দেখেছি
:ঃআমার বাবার নাম তাজউদ্দিন তাঁকে গারদ খানায় নিয়ে গেছে মা আপনাদের কথা বলছিল,ঃভিতরে চলো
রমা,তখুনো বদরের হাতধরেই ছিল
ঃ এটা তোমার বোন
ঃ না
৪৪
রমার মনে মনে হাসি পাইতেছিল, এবার সত্যি সত্যি হেসে ফেললেন। তবে হাসির ব্যাপ্তিকাল খুব বেশী হল নামাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষানী সাহেব বাড়িতে ছিলেন না।নওশের জানাল যে, উনি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দলন এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।হয়তো সে কারনেই পুলিশ তাকে ধরতে পারে।আরো জানাল যে, তার বাবা যা চায়, আল্লাহপাক তাহা অবস্যই তাকে দিয়ে থাকেন ।
বদর আর রমাকে দুপুরের দিকে বেশ আদর যত্ন করে খাওয়ালেন।খাবার বদরের পেটে যাইতেছিল না। নওশের বলল,,ঃআগে খেয়ে নাও তার বলতেছি কি করবে।
খাবার শেষ হলে নওসের তার মাকে বিষয়ে অবগত করল।নওসের এর মা এসে বদরকে বলল,ঃতুমি তো বেশ বড় হয়ে গেছ।
বদর নিজেকে লজ্জা বোধ করতে ছিল।এর পর একটা চিরকূট হাতে দিয়ে বলল, এটা নিয়ে সকালে মাইমিনসিং যাবে সকাল দশটার মধ্যেই।
বদর, ভাষানীর বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথ ধরলেন।রমা বাড়ি থেকে বেরিয়েই বলল,,ঃউনি পীর সাবের বউ
ঃওনার আরো একজন বউ আছে।
ঃদেখলাম না তো
ঃকারো সাথে দেখা দেয় না।
কথায় বলে,মেয়ে মানুূষ নিয়ে কোথাও বের হলে হাজার টা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। রমাও একের পর এক প্রশ্ন করতে চাইছে। বদর রমাকে থামিয়ে দিয়ে বললঃএ বিষয়ে কথা বলো না। তারাতারি বাড়ি চলো।অনেকক্ষন মন খারাপ করে হাটতে ছিলো রমা, বাড়ি পাবার মাইল খাণেক আগে পথের মধ্যেই বদর কে জিজ্ঞেস করল,ঃকি লিখেছে
ঃএকজনের নাম,,উনি উকিল
ঃহিন্দু ঃমুসলমান ঃকাকাবাবু কালই বের হবে।
ঃকি বলব তোমাকে তুমি তো দেখতেছ সব।
ঃআমাকে নিয়ে যাবে
ঃমাঝরাতে বের হতে হবে।সময় তো নষ্ট করা যাবে না।
ঃযদি মাকে বলিঃ আগে বাড়ি চল
বাড়িতে প্রবেশ করতেই রমার মা এগিয়ে গিয়ে রমা কে বলল,,ঃকিছু একটা হলো
ঃমা কাল সকালের মধ্যেই মায়মিনসিংকোর্টে যেতে বলেছে।
৪৫
বদর উঠোনে না দাড়িয়ে সোজা চলে গেল ওর রুমে।রমা মাকে বলল
ঃ মা আমিও যেতে চাই
ঃঅনেক দুর
ঃগাড়ীতে নিয়ে যাবে
ঃবদর এর সাথে কথাবলি তারপর
ঃআমি কিন্ত যাব
রাতে খাবার খেতে খেতে কথা হলো বদরের সাথে মায়ের। মা বদর কে বলল,ঃরমা মায়মিনসিং দেখে নাই,তুমি ওকে নিয়ে যাও।
ঃ মা আমি কাজে যাচ্ছি।বাড়িতে মা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। টুনিও---
বদর বাড়ি থেকে বেরিয়েছে রাত্রি দিপ্রহরে।ভোর হতে হতে সবে মাত্র এলেংগা ছেড়েছে। রমা অনেকটা জোর পূর্বক বাড়ি থেকে বদরের সাথে এসেছে।এবার কালীহাতির দিকে যেতে হবে। ময়মনসিংহ অবধি বাসে যেতে হবে তাদের। রমার খুব জল পিপাসা হইতেছিল।বদরকে জলের কথা বলতেই একটা টঙ (টাংগানো) দোকানের পাশে দাড় করিয়ে জলের খোজ করছিল,দোকানের পাশে তখুন তার সমবয়সী একটা ভদ্র ছেলে দাড়িয়ে সিগারেট ফুকতেছিল।দোকানী বদরকে জানালো যে, তার কাছে বাসীজল আছে।ভদ্র ছেলেটা হঠাৎ ই বলে উঠল,,ঃকোন গ্যেরামে বাড়ি???,,
ঃবাঘিল!
ঃকালীহাতি,,,,
ঃ না মায়মিনসিং
ঃ আমার কাছে জল নাই তয় পানি আছে খেতে পারো।
ঃএকই কথা তো হলো, দিন আমাকে।
ছেলেটা ভাংগা ভাংগা গলায় কথা বলতেছিল। দেখতে বদরের মতন লম্ভা চওড়া। কিনতু একটু উসকোখুসকো।রমার জল পান করা শেষ হলে, জলের বোতলটা ভাল করে দেখল যে,বোতলের গায়ে উর্দুতে কি সব লেখা আছে। রমা সে সব পড়তে পারল না। বদর কে দেখাতেই ছেলেটা আবার বলে উঠল।,,
ঃ এইডা পশচিম পাকিস্তানি জল,একদম বিসুদ্ধ।ইষট বেংগল রেজিমেন্ট এ ছিলাম,,চাকুরী টা ছেড়ে দিলাম।ছাতিহাটি বাড়ি,,
ভদ্র ছেলেটার কথা শেষ হওয়ার আগেই ঢাকা গামী বাস ফিরতেই বদর কে বলল,,ঃবাসে ওঠে আমার জন্যে একটা আসন রেখ।
রমার, এই লোকটার কথা মনে মনে তেমন পছন্দ হইতেছিল না।বাসে উঠে বদরের ডান দিকে ফাকা যায়গার পর একটা আসন নিলেন। বামপাশে রমার জন্য।
৪৬
এতটা পথ হাটার ফলে রমার ক্লান্তি লাগতেছিল। মিনিট দশেক পরেই বাস কালীহাতির উদ্দেশ্য ছুটে চলল।রমা বাসের ঝাকুনিতে ঘুম পাইতে লাগলএক সময় বদরের ডান কাধে হাত ও মাথাটা এলিয়ে দিয়ে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেল।ছেলেটা এবার বললঃ তোমার নাম কি?ময়মনসিংহ কেন?
ঃআমি বদর, বাবা গারদে
ঃকেন?
ঃ জানি না, তবে নওশের সাব বলছেতার বাবা, আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ,,,,, ঢাকায় গনডগোল হইতেছে, তার জন্য হইতে পারে।
ঃ উকিল ধরছো,
ঃ না
ঃ আমি ছাতিহাটি নামব। আবার স্কুল এ ভর্তি হয়ে পড়া শোনার ইচছে আছে অনেকদিন পর বাড়ি ফিরছি।তু,,,,মি আবদুল আলী, উকিলের সাথে দেখকর।বলো যে, কাদের পাঠিয়েছে।বদর নওশের সাহেবের চিরকূট টা দেখলও খানে লেখা আছে আঃ আলীম।
আবদুল কাদের,কালীহাতি পাবার আগেই একটা যায়গায় বাস থেকে নামলেন। বদর কোনদিনও এদিকে আসেনি।রমার ঘুম ভাংতেই তারা কালীহাতির বাসস্টপ এ পৌছাল।বাস থেকে নেমে এ কটা চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। বদর একজন কে জিজ্ঞাস করল,সময় এখন কত?লোকটা জানালো যে সকাল আট টা বাজতে ১০মিনিট বাকি।রমার খুব খিদে পাইতেছিল , বদরকে বলতেইবদর,মময়মনসিংহ যাবার পর খেতে চাইল।বদর রমাকে বলল,,ঃচা খাবেঃ ঘুমের নেশা কেটে যাবে।
ঃতুমি কি করে জানো।
ঃোোোোো
ঃমিথ্যে বলছো
রমা, বদরের সমপরর্কে সবই জানে যে, বদর চা পান করেন না। তার কোন বাঝে নেশা নেই এবং কি তামাকও খায় না।হঠাৎ চায়ের আমন্ত্রণ পেয়ে রমার মধ্যে কৌতুহল বেড়ে যায়।ঃএকবার খেয়ে দেখি,,,
দোকানদার চা দিতেই রমা মুখে দিতে সাহস পাইতেছিল না।বদর তাকিয়ে দেখতেিই। ঃগরম,,
ঃহা-হা-হা ——
রমা মুখে দিতেইঃ ওমা,,, এটা দেখছি শুকতা পাতা।(পাট পাতা)বদর আবার হাসতে লাগল,,রমা বলল,,ঃসত্য,শুকতা পাতা,,
৪৭
বদর ব্যাপার টা বুঝতে পারলো, যে রমা চা কোনদিন খায়নি।বদর চা শেষ করলেও রমা খেতে পারছিল না। বদর বলল,,ঃশুকতা পাতা থাক এবার চলো।
পেয়ালাটা হাত থেকে নামিয়ে রমা বদরকে জানাল যে, আমাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে হবে। শহরে আমি একা হাটতে পারব না।ঘনটা খানেকর মধ্যেই তারামায়মিনসিং শহরে পৌছাল।কোর্টে র কথা বলতেই, রিক্সা ওয়ালা নিয়ে চলল কৌর্টের দিকে।বদর ও রমা দুজনেই শহরে নতুন।কিনতু তাদের দুজনেরই শিক্ষাদিক্ষা আছে। তাইতো অতটা বেগ পেতে হল না।আঃআলীমের খোজ করতেই,,লোকজন দেখিয়ে দিল,,
বদর আসসালামুআলাইকুম বলে সম্ভেদন করতেই,,,লোকটা জিজ্ঞেস করল,,ঃকেস না জামিন।
ঃজামিনের জন্য।
ঃ( চিরকুট হাতে দিয়ে) আপনিই আলী
ঃবলো
ঃবাবাকে আজি ছাড়িয়ে দিন না কাকা।তাজউদ্দিন ডাকাত।
মুহুরি দিয়ে জামিনের কাগজ পত্র তৈরি হলো। ঘনটাখানেক পরেই মুহুরি জানাল যে,ঃতোমার বাবার বেল হয়ে গেছে।আজি ছাড়া পাবে।
পেয়ালাটা হাত থেকে নামিয়ে রমা বদরকে জানাল যে, আমাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে হবে। শহরে আমি একা হাটতে পারব না।ঘনটা খানেকর মধ্যেই তারামায়মিনসিং শহরে পৌছাল।কোর্টে র কথা বলতেই, রিক্সা ওয়ালা নিয়ে চলল কৌর্টের দিকে।বদর ও রমা দুজনেই শহরে নতুন।কিনতু তাদের দুজনেরই শিক্ষাদিক্ষা আছে। তাইতো অতটা বেগ পেতে হল না।আঃআলীমের খোজ করতেই,,লোকজন দেখিয়ে দিল,,
বদর আসসালামুআলাইকুম বলে সম্ভেদন করতেই,,,লোকটা জিজ্ঞেস করল,,
ঃকেস না জামিন।
ঃজামিনের জন্য।
ঃ( চিরকুট হাতে দিয়ে) আপনিই আলী
ঃবলো
ঃবাবাকে আজি ছাড়িয়ে দিন না কাকা।তাজউদ্দিন ডাকাত।
মুহুরি দিয়ে জামিনের কাগজ পত্র তৈরি হলো। ঘনটাখানেক পরেই মুহুরি জানাল যে,ঃতোমার বাবার বেল হয়ে গেছে।আজি ছাড়া পাবে।
৪৮
বদরের বাবা জেল থেকে ছাড়া পাবে বিকেলের দিকে। রমা ও বদর খুশিতে খাওয়া প্রায়ই ভুলেই গিয়েছিল।বদর তার বাবাকে ছাড়াতে পারছে এই আনব্দ মুখে বলার মত ভাষা কারো জানা নেই। বদরের জীবনে এই প্রথম কোন যুদ্ধ নেমে তা জয় করতে পেরে মনে মনে নিজেকে গর্ববোধ করছিলেন।
রমা বদরের এ বিজয়ে যেন লাফাচছে।বদর খাবারের কথা বলতেই,, রমা বলল যে সে রেলস্টেশন দেখবে ওখানেই খেয়ে নেবে। রমা কোনদিনও রেল লাইন দেখেনিএবং বদর ও না। তাইতো বদর ভাবল হাতে সময় আছে ওখানে গেলে মন্দ হয় নাএকটা রিক্সা যোগে তারা রেলস্টেশন পৌছতেই বদরখাবারের জন্য ভাল হোটেল খুজতে লাগল।একটু অধুরে গারো সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে সেখানে।স্টেশনএ বাদাম বিক্রেতারা লোকজনের পিছনে ঘুরতে ছিল।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভাল হোটেলের সন্ধান পেল না।রমা বাদাম কেনার কথা বলতেই,, বদর হাত দিয়ে বাদাম বিক্রেতাকে ইশারা করল।
তখুন রেলস্টেশন এর পাতানো সিটে দুজন গারো ছেলে মেয়ে কথা বলছিল।
রমা ও বদর বসতেই দেখল ছেলেটার চোখ দিয়ে জল গরিয়ে পরছে কিনতু
মেয়েটা অনায়াসে বাদাম খাইতেঁছে।তার কয়েক মিনিট পরেই রেলগাড়ি এসে থামল। মেয়েটার কথা কিছুই বোঝা যাইতেছিল না। বদর দেখল , হঠাৎ ছেলেটা মেয়েটার হাত ধরতেই মেয়েটা চেচিয়ে ঊঠল,,,এবার ছেলেটা হাত ছেড়ে দিয়ে সোজা সামনে স্লিপার এর কাছে দাড়াল। বদর যেখানে বসে ছিলো ঠিকতার খেকে ২০মিটারের মত দুরে দাড়িয়েও ছেলেটা এদিকে তাকিয়েই রইল।
রমা কিছু একটা বলতে চাইল মেয়েটাকে কিনতু মেয়েটা রমার দিকে ফিরেও দেখল না।বদর রমাকে বাধা দিতেছিল। ঠিক তার মিনিট দুয়েক পর স্টেশনে হৈচৈ পরে গেল। বিশ কি বাইশ বছরের একটা ছেলে বদরের দিকে তেরে আসল। রমা শক্ত করে বদরকে জরিয়ে ধরতেই ছেলেটা মান্দি ভাষায় অকথ্য গালিগালাজ করতে করতে মেয়েটার চুলের মুঠি ধরে ফেললেন।,,,
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন